বিএলএ ইউকের তুরস্ক ভ্রমণ
অফুরন্ত আনন্দ, প্রাণখোলা হাসি আর ভালোলাগার রেশ নিয়ে শেষ হলো বিএলএ ইউকের সদস্যদের বহু প্রতীক্ষিত তুরস্ক সফর। ৬ থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চার দিনের এই ওভারসিজ ট্রিপে বিএলএ ইউকের ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ভ্রমণ করে তুরস্কের পর্যটন নগরী আন্তালিয়ায়। ব্যস্ত পেশাজীবনের ফাঁকে এই ভ্রমণ যেন অংশগ্রহণকারীদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় শৈশবের শীতের ছুটির সেই নির্মল আনন্দে।
স্বতঃস্ফূর্ততা, উচ্ছ্বাস ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে পুরো সফরজুড়েই সদস্যরা উপভোগ করেন একের পর এক স্মরণীয় মুহূর্ত। সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার সলিসিটর মুজিবুর রহমান এবং প্রথম নারী সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মাহমুদা চৌধুরীর নেতৃত্বে এই যাত্রায় অংশ নেন বিএলএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ব্যারিস্টার নাজিরুদ্দিন চৌধুরী ও তাঁর সহধর্মিণী বদরুনসহ মোট চারজন। এছাড়াও বর্তমান সভাপতি ব্যারিস্টার সলিসিটর নিজামউল হক, প্রাক্তন সভাপতি ও বর্তমান ডিইউএ ইউকের জিএস ব্যারিস্টার এম কিউ হাসান, এসবিবিএস-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সলিসিটর সহুল আহমেদ মকু এবং প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মনির চৌধুরী এই সফরে উপস্থিত ছিলেন।
অতিথি হিসেবে সফরে যোগ দেন এমদাদ তালুকদার ও মাহফুজা রহমান। পুরো ভ্রমণজুড়েই সবাইকে হাসিমুখে আনন্দ উপভোগ করতে দেখা যায়। সমিতির সদস্য খাদিজা আহমেদ বন্যা ছবি ও ভিডিও ধারণের মাধ্যমে স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে রাখেন। পরিবারসহ সফরে অংশ নেন ব্যারিস্টার তানিয়া হক, ব্যারিস্টার মাহফুজুল হক চঞ্চল, ব্যারিস্টার সলিসিটর সঞ্জয় রায় ও ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির। অন্নিতা, নিভৃতা, আনিকা, আনাহিতা, অলিভার, অদিতি, ইনাকসি ও রুভাঞ্চসসহ শিশুরাও পুরো ট্রিপে প্রাণচাঞ্চল্যে মেতে ওঠে।
ভ্রমণের প্রথম দিন ২১তম ব্যাচের মাসুদের সৌজন্যে সকালের নাস্তার পর লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে দলটি। আন্তালিয়ায় পৌঁছে তারা ওঠে পাঁচ তারকা আলবা কুইন রিসোর্টে। দ্বিতীয় দিন শহর দর্শনের পাশাপাশি যাত্রাপথে বাসে চলতে থাকে গান, কবিতা আর প্রাণবন্ত আড্ডা। জলপ্রপাত ও শহরের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগের পর রাতে ‘ল্যান্ড অব লেজেন্ডস’-এর আলোঝলমলে পরিবেশ ও বোট শো সবাইকে মুগ্ধ করে। হোটেলে ফেরার পরও কেউ কেউ ভূমধ্যসাগরের তীরে ছুটে যান রাতের নীরবতা আর সাগরের গর্জন উপভোগ করতে; গভীর রাত পর্যন্ত চলে আড্ডা।
পরদিন সকালে সদস্যরা রওনা হন আন্তালিয়ার অন্য প্রান্ত মানাভগাটে। নয়নাভিরাম মসজিদ, জলপ্রপাত এবং গ্রীন ক্যানিয়নের পাহাড়ঘেরা লেকে নৌকা ভ্রমণের মধ্য দিয়ে কাটে আরও একটি স্মৃতিময় দিন। ফিরতি দিনে সকালের নাস্তার পর গ্রুপ ছবি তুলে সবাই ছুটে যান হোটেলসংলগ্ন সৈকতে—ভূমধ্যসাগরের ফেনিল সৌন্দর্য আর উত্তাল ঢেউ উপভোগ করতে।
অল ইনক্লুসিভ রিসোর্টে প্রতিটি বেলায় শতাধিক আইটেমের খাবার, ইনডোর ও আউটডোর সুইমিং পুল, উষ্ণস্নান এবং ওয়াটার পার্ক ভ্রমণকারীদের বিশেষ আকর্ষণ ছিল। ফিরতি ফ্লাইটেও সবার মাঝে ছিল সেই উচ্ছ্বাসের রেশ; চলতে থাকে জমজমাট আড্ডা। সফর শেষ হলেও স্মৃতিতে থেকে যায় এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীরভাবে স্মরণীয় ভ্রমণের আনন্দ।



































