আমাদের ঋণ খেলাপিরা এবং তাদের দৌরাত্ম্য | নজরুল ইসলাম
ঋণ খেলাপিদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করা উচিত কি না, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নৈতিক প্রশ্ন। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সংবিধান নির্বাচন কমিশন এর আলোকে এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা রয়েছে যা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
নৈতিক ও চারিত্রিক দিক বিবেচনায় একজন জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব হলো জনগণের আমানত রক্ষা করা এবং দেশের সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা করা। যিনি ব্যাংকের টাকা (যা মূলত জনগণের টাকা) সময়মতো ফেরত দিতে পারেননি বা দেননি, তার ওপর রাষ্ট্রীয় সম্পদের দায়িত্ব দেওয়া নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংকট তৈরির ঝুঁকি থাকে।
আইনি সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, সাধারণত ঋণ খেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার আগে ব্যাংক থেকে ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে অনেক সময় আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে বা উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে ঋণ খেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নেন। এটি আইনের শাসনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচন কমিশন এবং রাষ্ট্রকে স্বার্থের সংঘাত সার্থক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। যদি একজন বড় ঋণ খেলাপি আইনপ্রণেতা হয়ে যান, তবে তার পক্ষে এমন আইন বা নীতিমালা তৈরি করার সুযোগ থাকে যা তার নিজের ব্যবসাকে সুবিধা দেয়। একে 'স্বার্থের সংঘাত' (Conflict of Interest) বলা হয়। এতে সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে।
তাদের মত দেশদ্রোহী ব্যক্তিরা পার্লামেন্টে আসলে সুশাসনে প্রভাব পড়বে এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
সুশাসনের অন্যতম শর্ত হলো সততা। ঋণ খেলাপিদের প্রতিনিধি হিসেবে গ্রহণ করলে সমাজে এই বার্তা যায় যে, অনিয়ম করেও ক্ষমতার শীর্ষে যাওয়া সম্ভব। এটি সৎ ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করে এবং দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
নির্বাচনে ঋণ খেলাপিদের অংশগ্রহণ এবং এ ব্যাপারে দেশের নাগরিকদের কি সিদ্ধান্ত নিতে হবে? ভোট দেওয়ার সময় একজন প্রার্থীর সম্পর্কে নিচের বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি: সততা ও স্বচ্ছতা, প্রার্থীর আয়ের উৎস এবং পূর্বের রেকর্ড কেমন? তিনি কি নিজের ব্যবসার প্রসারে আগ্রহী নাকি জনগণের সেবায়? তার বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত কি না?
পরিশেষে, গণতন্ত্রে প্রতিনিধি নির্বাচনের চূড়ান্ত ক্ষমতা জনগণের হাতে। সচেতন নাগরিক হিসেবে এমন কাউকে বেছে নেওয়া উচিত যারা ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেন।


































