হরমুজ প্রণালিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করছে ইরান: সংকটে বিশ্ব জ্বালানি পথ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে একটি নতুন আইন অনুমোদন করতে যাচ্ছে ইরানের পার্লামেন্ট। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন 'প্রেস টিভি'র বরাত দিয়ে শনিবার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনের মূল ১২ দফা
ইরানের পার্লামেন্টের ভাইস স্পিকার আলী নিকজাদ জানিয়েছেন, ১২ দফার এই নতুন পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। প্রস্তাবিত আইনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
-
ইসরায়েলি জাহাজে নিষেধাজ্ঞা: কোনো ইসরায়েলি জাহাজকে এই জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
-
শত্রু দেশ ও যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ: যুক্তরাষ্ট্রসহ ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত রাষ্ট্রগুলোর জাহাজ চলাচলের আগে ইরানকে ‘যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ’ প্রদান করতে হবে এবং বাধ্যতামূলক পারমিট সংগ্রহ করতে হবে।
-
সার্বজনীন পারমিট: অন্যান্য সকল দেশের জাহাজকেও এই প্রণালি অতিক্রমের জন্য ইরান সরকারের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।
কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও তেহরানের অবস্থান
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া আগের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর শুক্রবার একটি সংশোধিত প্রস্তাব পেশ করেছে তেহরান।
এ বিষয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, "এখন বল আমেরিকার কোর্টে।" ওয়াশিংটনকে এখন বেছে নিতে হবে তারা কূটনীতির পথে হাঁটবে নাকি সংঘাতের পথে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা
হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত। সংকীর্ণ এই জলপথে ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এই আইনি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: সিএনএন, প্রেস টিভি।





































