বিশ্ব কাঁপানো কে এই গ্রেটা থুনবার্গ?
বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ পরিবেশকর্মীদের মধ্যে অন্যতম গ্রেটা থুনবার্গ। সুইডিশ এই তরুণী প্রথমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পান, কিন্তু সাম্প্রতিক গাজা সংকটে তার নাম আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
২০০৩ সালের ৩ জানুয়ারি সুইডেনের স্টকহোমে জন্ম নেওয়া গ্রেটার পরিবার ছিল সংস্কৃতি ও সমাজ সচেতনতায় পরিপূর্ণ। মা মালিনা এরনমান একজন অপেরা গায়কী এবং বাবা অভিনেতা স্বিডেন থুনবার্গ। ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি ও মানবতার প্রতি গভীর অনুরাগ গড়ে ওঠে তার মধ্যে। ১১ বছর বয়সে অ্যাসপার্জার সিন্ড্রোম ধরা পড়লেও তা তাকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি ‘স্কুল স্ট্রাইক ফর ক্লাইমেট’ আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। একা সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে বসে তার প্রতিবাদে বিশ্ব তরুণ সমাজে জেগে ওঠে পরিবেশ আন্দোলনের ঢেউ।
তবে এবার আলোচনায় তিনি ভিন্ন কারণে। গত সপ্তাহে গাজাগামী ত্রাণবহরে ইসরায়েলি হামলার পর জানা যায়, থুনবার্গ নিজেও হামলার শিকার হয়েছেন। ইতালীয় সাংবাদিক লরেঞ্জো আগোস্তিনো জানান, ইসরায়েলি বাহিনী গ্রেটাকে ও তার সহযাত্রীদের অপহরণ করে অপমানজনক আচরণ করে। তুর্কি কর্মী এরসিন চেলিক বলেন, “তারা আমাদের চোখের সামনে গ্রেটাকে টেনে নিয়ে যায়, মারধর করে এবং ইসরায়েলি পতাকা চুম্বন করতে বাধ্য করে।”
সুইডিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্দিদশায় গ্রেটা পানি ও খাবারের অভাবে ভুগেছেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় বিশ্বনেতারা নীরব থাকলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
গাজার জলসীমায় ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করতে গিয়ে গ্রেটা ও আরও শতাধিক কর্মীকে আটক করা হয়। মুক্তির পর এথেন্সে তিনি বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলছি, গাজায় গণহত্যা চলছে—বিশ্ব নীরব দর্শক।”




































