৯ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে ঢাকা! ধ্বংস হতে পারে ৫০ শতাংশ ভবন!
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ আজ এক অজানা আতঙ্কের ছায়ায় বসবাস করছে। ভূপৃষ্ঠের নিচে জমে থাকা চাপ, আর মাথার ওপর ঝুলে থাকা অনিশ্চয়তার মেঘ—দুয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রাজধানী ঢাকা যেন পরিণত হয়েছে এক জীবন্ত টাইম বোমায়। বিজ্ঞানীরা বারবার সাবধান করছেন, যেকোনো মুহূর্তে এই ব-দ্বীপ কেঁপে উঠতে পারে ৯ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে। তবে প্রস্ততির জায়গায় বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অভ্যন্তরে তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায়, ভূমিকম্পের ঝুঁকি শুধু বাস্তবই নয়—এটা এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ভূমিকম্পবিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার স্পষ্ট করে বলছেন, দেশের এই ভূতাত্ত্বিক অবস্থান বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে মারাত্মক দুর্যোগের সম্ভাবনা।
আর সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে রাজধানী ঢাকা—যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি, অথচ ভবনগুলো গড়ে উঠেছে অবকাঠামোগত ন্যূনতম মানদণ্ডের তোয়াক্কা না করেই। বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারির গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র— তার মতে, একটি বড় ভূমিকম্প হলে ঢাকার অর্ধেকের বেশি ভবন হয় ধসে পড়বে, নয়তো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিতভাবে অনুভূত হচ্ছে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন। এগুলো যেমন জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, তেমনি শহরের ভবনগুলোর ভেতরেও জন্ম দিচ্ছে ধীরে ধীরে জমতে থাকা ফাটলের। অথচ এসব ঘটনা থেকেও নেয়া হচ্ছে না পর্যাপ্ত শিক্ষা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক অধ্যাপক খোন্দকার মোকাদ্দেম হোসেন জানাচ্ছেন, বাংলাদেশের ভূমিকম্প মোকাবিলার সক্ষমতা মাত্র ২০ শতাংশেরও নিচে। তার ভাষায়, “বড় ধরনের দুর্যোগ এলে আমরা কার্যত অচল হয়ে পড়ব।”
যদিও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা প্রস্তুতির চেষ্টায় আছে। সংস্থাটির পরিচালক (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, তারা ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মাথায় রেখে প্রশিক্ষণ ও নতুন কর্মপদ্ধতি চালু করছেন। তবে একক প্রস্তুতিতে চলবে না, প্রয়োজন সামগ্রিক ও সমন্বিত উদ্যোগ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সময় পরিকল্পিত নগরায়নের দিকে যাওয়া, ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করা এবং জনগণকে সচেতন করে তোলার। না হলে, এই ঘুমন্ত বিপদ যেদিন জেগে উঠবে, সেদিন হয়তো শুধুই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে হাহাকার করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না।




































