বুধবার , ০৩ জুন ২০২৬
Wednesday , 03 June 2026
১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:১৬, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

চরম দুর্ভিক্ষে গাজাবাসী! কবে মিলবে স্বস্তি?

চরম দুর্ভিক্ষে গাজাবাসী! কবে মিলবে স্বস্তি?

দীর্ঘ দুই বছর ধরে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের টানা আগ্রাসন, অবরোধ আর বোমা হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় এখন চরমে। যুদ্ধ থেমেছে কয়েকদিন আগে, কিন্তু গাজাবাসীর দুর্ভোগ থামেনি। প্রতিদিনের জীবন এখন এক কঠিন সংগ্রাম—খাদ্য, চিকিৎসা আর নিরাপদ পানির জন্য লড়াই করতে হচ্ছে লাখো মানুষকে।

ইসরায়েলের অবরোধ ও টানা সহিংসতায় গাজার অর্থনীতি ও অবকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালগুলোয় সীমিত পরিষেবা মিললেও রোগী উপচে পড়ছে। চিকিৎসা সামগ্রীর ভয়াবহ ঘাটতিতে প্রাণ হারাচ্ছে অনেকে। জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা (IPC) গত আগস্টে গাজাকে ‘কঠোর দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির’ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে।

যুদ্ধবিরতির পর অষ্টম দিন পার হলেও গাজায় স্বস্তি ফিরছে খুবই ধীর গতিতে। শান্তিচুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল প্রতিদিন ৬০০ ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে গড়ে ৩০০টিরও কম ট্রাক প্রবেশ করছে। আল–জাজিরার খবরে বলা হয়, সীমান্তে দীর্ঘ সময় আটকে থাকছে ট্রাকগুলো, ইসরায়েলি বাহিনী খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তল্লাশি করছে প্রতিটি গাড়ি, যার ফলে সরবরাহে বড় ধরনের দেরি হচ্ছে।

গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৩টি এখন আংশিকভাবে চালু। বাকি হাসপাতালগুলো বোমা হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) আঞ্চলিক পরিচালক হানান বালকি সতর্ক করে জানিয়েছেন, গাজায় মেনিনজাইটিস, ডায়রিয়া এবং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। চিকিৎসা নেই, বিশুদ্ধ পানি নেই, সংক্রমণ রোধের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই—সব মিলিয়ে গাজা এখন এক মৃত্যুপুরী।

আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে
মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা বাড়তে থাকায় জাতিসংঘ ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) গাজার সব সীমান্ত ক্রসিং অবিলম্বে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, দ্রুত এবং নিরবিচারে ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ না দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হামাস আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তারা গাজায় একটি প্রশাসনিক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিলেও, যুক্তরাষ্ট্রের ‘শান্তি পরিকল্পনায়’ ভবিষ্যতে হামাসের গাজা শাসনের কোনো জায়গা নেই। আপাতত শৃঙ্খলা রক্ষায় হামাসকে অস্ত্র রাখার সীমিত অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব এখন এক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে—এই সংকটের শেষ কোথায়? সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়তো কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে, কিন্তু বহু বছরের ক্ষত সারাতে সময় লাগবে অনেক, লাগবে আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা। না হলে গাজার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চয়তায় ডুবে যাবে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

সর্বশেষ

জনপ্রিয়