সোমবার , ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
Monday , 01 December 2025
১৬ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২
০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৩৬, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

ফেইসবুক লাইভে এসে সংসদ ভেঙে দিলেন মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট!

ফেইসবুক লাইভে এসে সংসদ ভেঙে দিলেন মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট!

ফেসবুক লাইভে এসে সংসদ ভেঙে দিলেন মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট!

সংসদ ভেঙে দিলেন ফেসবুক লাইভে, আর নিজে পালিয়ে গেলেন বিদেশে, মাদাগাস্কারে প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনার কাণ্ডে উত্তাল পুরো দেশ। বিদ্যুৎ-পানি সংকট থেকে শুরু হওয়া গণআন্দোলন এখন রূপ নিয়েছে গভীর রাজনৈতিক সঙ্কটে।

বিক্ষোভ, সেনাসমর্থন, অভ্যুত্থানচেষ্টা—সব মিলিয়ে টালমাটাল মাদাগাস্কার। আর এই পরিস্থিতির মাঝেই দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা হঠাৎ করে একটি ফরাসি সামরিক বিমানে চড়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। পালিয়ে গেলেও থেমে থাকেননি তিনি। বরং ১৪ অক্টোবর, সোমবার রাতে একটি ফেসবুক লাইভে এসে নাটকীয়ভাবে ঘোষণা দেন—"জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে!"

ফ্রান্স থেকে দেওয়া সেই ঘোষণাটি দেশটির টেলিভিশন ও রেডিওতেও সম্প্রচার করা হয়। এতে তিনি দাবি করেন, “দেশের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং গণতন্ত্র রক্ষায় সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তবে প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণা ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিরোধীদলীয় নেতা সিটেনি র‌্যান্ড্রিয়ানাসোলোনিয়াইকো একে সরাসরি "সংবিধানবিরোধী" বলে আখ্যায়িত করেছেন। তার বক্তব্য, “একজন প্রেসিডেন্টের এমন একতরফা সিদ্ধান্তের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।”

রাজোয়েলিনা অভিযোগ করেন, সেনাবাহিনীর একটি অংশ এবং কিছু রাজনীতিক তার বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র করছিল।
তিনি বলেন, “২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আমার জীবন হুমকির মুখে। আমি এখন এক নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছি।” এই "নিরাপদ স্থান" হলো মূলত ফ্রান্স। জানা গেছে, তিনি একটি ফরাসি সামরিক বিমানে করে দেশ ছাড়েন এবং পরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকও করেন।

রাজনৈতিক এই অস্থিরতার সূচনা হয় বিদ্যুৎ ও পানির ভয়াবহ সংকট থেকে। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের নানা প্রান্তে মানুষ সড়কে নেমে আসে, যার নেতৃত্বে ছিল Gen Z অর্থাৎ নতুন প্রজন্মের তরুণ আন্দোলনকারীরা। এই বিক্ষোভে যোগ দেয় শিক্ষার্থী, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষ। দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও জনসেবার অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ তখন চরমে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে যখন সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিট আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রকাশ্যে সংহতি জানায়। তখন থেকেই প্রেসিডেন্ট কার্যত রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়