সোমবার , ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
Monday , 01 December 2025
১৬ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২
০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৫৪, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

আপডেট: ১৩:৫৫, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

ইসরায়েলের নয়া কৌশল

গাজাবাসীকে দুর্ভিক্ষে মারতে চায় দখলদ্বার ইসরায়েল?

গাজাবাসীকে দুর্ভিক্ষে মারতে চায় দখলদ্বার ইসরায়েল?

যুদ্ধবিরতির কাগজি ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে গাজার মানুষদের জীবন এখন এক নীরব দাঙ্গা—বোমার বদলে তাদেরকে কুপোকাত করা হচ্ছে ক্ষুধা, পানিহীনতা ও চিকিৎসাহীনতার মাধ্যমে। সীমান্ত বন্ধ রাখা, মানবিক সাহায্য বাধা দেওয়া এবং জ্বালানি সরবরাহে কড়াকড়ি আরোপ করে ইসরায়েল কার্যত গাজা উপত্যকাকে ধীরে ধীরে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন।

কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কিন্তু, ইসরায়েল এখন প্রশাসনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে গাজায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি ত্রাণ ট্রাক প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। অন্যদিকে ইউনিসেফ, জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে প্রকৃত প্রয়োজন কমপক্ষে ৬০০ ট্রাক প্রতিদিন—তবু অর্ধেকই অনুমোদন দেয়া হচ্ছে।

এই সংকুচিত প্রবাহে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুৎ অনিশ্চিত; প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ব্যান্ডেজ, স্যালাইন ও অক্সিজেন দ্রুত ফুরিয়ে আসে। অপরদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, রাফা সীমান্তও খুলবে না—যা আগে জরুরি সাহায্য, জ্বালানি ও রোগীদের চিকিৎসার বাইরে প্রেরণে ব্যবহৃত হতো। সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে কার্যত গাজার মানুষদের বাইরে যাওয়ার বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পেতে দেওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে দখলদ্বার ইসরায়েল।

এই নীতির ফলশ্রুতিতে মানুষের মৃত্যু আর কষ্ট—এখন শুধু বোমা-বারুদের কারণে নয় বরং খাবারের অভাবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দিয়েই ইসরায়েল মানবিক সহায়তাকে নিয়ন্ত্রণ করে এটাকে এক ধরনের 'নীরব অস্ত্রে’ রূপান্তরিত করেছে—যেখানে লক্ষ্য হচ্ছে বিপুল জনসংখ্যাকে খাদ্য ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে তাদের দুর্বল করা। ফলে মানুষ মরছে না শুধুমাত্র বোমায়, বরং ধীরে ধীরে ক্ষুধা ও অসুস্থতায়ও মারা যাচ্ছে গাজার মানুষ।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই যুদ্ধবিরতির নামে ভ্রান্ত শান্তির মতোই হঠাৎ সহিংসতাও থেমে নেই। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) গাজা সিটির শুজাইয়া এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন; আল-আহলি আরব হাসপাতালের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে তাদের মধ্যে ৫ জনকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা হুমকি প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে গুলি চালিয়েছে—তবে এ ঘটনার সময়টিও যুদ্ধবিরতির চার দিনের মধ্যেই ঘটেছে, যা নতুনভাবে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজাবাসীর জন্য এখন প্রয়োজন সীমান্ত খোলা, সহায়তা দ্রুত পাঠানো এবং জ্বালানি–চিকিৎসা সরঞ্জামের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা—নাহলে কাগজে যুদ্ধবিরতি থাকলেও বাস্তবে মানুষের ওপর হতে থাকা নিঃশব্দ নৃশংসতা বন্ধ হবে না।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়