সোমবার , ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
Monday , 01 December 2025
১৬ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২
০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:০৬, ৮ অক্টোবর ২০২৫

শহিদুল আলমের ‘কনশানস’সহ ফ্রিডম ফ্লোটিলার সব জাহাজ আটক!

শহিদুল আলমের ‘কনশানস’সহ ফ্রিডম ফ্লোটিলার সব জাহাজ আটক!

ইসরায়েলের নৌবাহিনী গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’-র সব জাহাজ আটক করেছে। বহরের মধ্যে ছিল বাংলাদেশের খ্যাতিমান আলোকচিত্রী ও দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শহিদুল আলমের জাহাজ ‘কনশানস’।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত এই বহরের প্রধান লক্ষ্য ছিল গাজার অবরুদ্ধ জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং সেখানে চলমান সংকটের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সচেতনতা বাড়ানো।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর, ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন শহিদুল আলম। তিনি বলেন, “আমাদের সমুদ্রে আটক করা হয়েছে এবং আমি ইসরায়েলের দখলদার বাহিনীর দ্বারা অপহৃত হয়েছি। গাজায় গণহত্যা চলছে — যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর সহযোগিতায় ঘটছে।
আমি আমার কমরেড ও বন্ধুদের বলছি, এই লড়াই থামাবেন না।”

ভিডিওর শেষদিকে শহিদুল আলম বলেন: “আমাদের যাত্রা থেমে গেলেও, গাজার জনগণের প্রতি আমাদের দায় থেমে যায় না। সাহস হারাবেন না। সত্যকে জানান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন।”

তার এই ভিডিওটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তার্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রথম হামলা চালানো হয় ‘কনশানস’ জাহাজে, যেখানে ৯৩ জন যাত্রী ছিলেন — এদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক, চিকিৎসক ও মানবাধিকারকর্মী। এরপর পর্যায়ক্রমে ফ্লোটিলার বাকি তিনটি ছোট জাহাজেও হামলা চালায় ইসরায়েলি নৌবাহিনী। ফ্লোটিলা ট্র্যাকিং সিস্টেম অনুযায়ী, বর্তমানে ৯টি জাহাজই আটক রয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই ফ্লোটিলা অভিযানের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ ও নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে। আটক যাত্রীদের নিরাপদে বন্দরে আনা হচ্ছে এবং দ্রুত মুক্তি দেওয়া হবে।”

এই ঘটনার পর মানবাধিকার সংস্থা, সাংবাদিক সংগঠন ও বিশ্বজুড়ে সচেতন নাগরিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, “ফ্লোটিলার অভিযান ছিল শান্তিপূর্ণ ও মানবিক। একে জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন।”

ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমাদের উদ্দেশ্য ছিল গাজার অবরুদ্ধ অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামরিক সংঘাতে জড়ানো নয়।” এই অভিযানে শহিদুল আলমের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের অংশগ্রহণে গাজার সংকট নতুন করে বিশ্বমঞ্চে আলোচনায় উঠে এসেছে।

এই মুহূর্তে শহিদুল আলমসহ আটক সকল যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দ্রুত মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক মহলে চাপ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং সংবাদে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন রাজনীতিক, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ।

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়