যুদ্ধবিরতির পর কত লাখ ফিলিস্তিনি ফিরলেন নিজের জন্মভূমিতে?
দুই বছরের রক্তাক্ত যাত্রার পর ফিরে আসা, এ যেন শুধু ঘরে ফেরা নয়, বরং নিজের পরিচয়ে ফিরে আসা। দীর্ঘদিনের গোলাগুলি, বোমাবর্ষণ আর ধ্বংসযজ্ঞের পর অবরুদ্ধ গাজার আকাশে এখন শোনা যাচ্ছে মানুষের ফিরে আসার শব্দ। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক দিনের মাথায়ই ৫ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি ফিরে এসেছেন গাজার ধ্বংসস্তূপে পরিণত শহরে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল শনিবার (১১ অক্টোবর) জানান, “গতকাল (শুক্রবার) থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ গাজা সিটিতে ফিরে এসেছেন।” কেউ ফিরেছেন ভাঙা দরজার সামনে দাঁড়াতে, কেউ ফিরেছেন যেন শুধু মাটির গন্ধ নিতে, আবার কেউ এসেছেন সেই দেয়ালের পাশে বসতে, যেখানে একদিন তাঁর শৈশব কেটেছিল। বাড়ি বলতে কিছু নেই, ছাদ বলে যা ছিল, তা এখন কেবল আকাশ। কিন্তু হৃদয়ের ছাদ তো নিজের ভূমিই, আর সেই আশায় ফিরেছেন ফিলিস্তিনিরা।
টানা দুই বছর ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে গাজার বহু এলাকা এখন কেবল ধুলো-পাথরের স্তূপ। স্কুল, হাসপাতাল, বাজার সবই যেন মৃত শহরের ভাঙা কঙ্কাল। কিন্তু গাজার মানুষ হার মানতে জানে না। তারা ফিরছে, বুক পেতে নিচ্ছে ধূলিধূসর স্মৃতিগুলোকে।
এই ফিরে আসা শুধু জীবনের প্রয়োজনেই নয় এ এক নীরব প্রতিবাদও। গাজার মানুষের কণ্ঠে না থাকলেও চোখে মুখে যেন একটাই কথা: "এই ভূমি আমাদের জন্মভূমি, যতবার তাড়াবে, ততবারই ফিরে আসব।"
এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতির পেছনে ছিল আন্তর্জাতিক চাপ ও আলোচনার দীর্ঘ পথ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে তিনি তুলে ধরেন ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা।
এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করেই মিশরের শারম আল–শেখে শুরু হয় হামাস ও ইসরাইলের প্রতিনিধিদের পরোক্ষ আলোচনা। কাতার, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তিনদিন পর উভয় পক্ষ সম্মত হয় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে। ১০ অক্টোবর (শুক্রবার) আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় এবং শুরু হয় সেনা প্রত্যাহার।




































