সোমবার , ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
Monday , 01 December 2025
১৬ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২
০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:২১, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

ভারতে বাড়ছে মুসলিম! কমছে হিন্দু

ভারতে বাড়ছে মুসলিম! কমছে হিন্দু

ভারতের রাজনীতিতে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে জনসংখ্যা ইস্যু। দেশে হিন্দুরা কমছে, মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ছে, এমন দাবি তুলে সরাসরি আঙুল তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, এই পরিবর্তনের মূল কারণ জন্মহার নয়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ‘বিরাট সংখ্যায়’ অনুপ্রবেশ।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) নয়াদিল্লির এক অনুষ্ঠানে অমিত শাহ বলেন, “১৯৫১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রতিটি জনগণনায় দেখা গেছে, হিন্দু জনসংখ্যা কমেছে ৪.৫ শতাংশ, আর মুসলিম জনসংখ্যা বেড়েছে ২৪.৬ শতাংশ। এটা স্বাভাবিক সামাজিক পরিবর্তন নয়। মূলত অনুপ্রবেশকারীরাই এই ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, তিন ধাপে অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ চলছে, চিহ্নিতকরণ, ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। এদিকে অমিত শাহের বক্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের উত্তর প্রদেশ সভাপতি অজয় রাই বলেন, “এই ধরনের ধর্মীয় বিভাজনের কথা বলে সরকার আসল সমস্যা থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে চাইছে। বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, কৃষক সংকট সবই চাপা পড়ে যাচ্ছে ভোটের আগের এই কৌশলে।”

আরও কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। তিনি বলেন, “অমিত শাহ বলছেন মুসলমানদের সংখ্যা ২৪.৬% বেড়েছে, অথচ সরকারি হিসেব বলছে ৪.৪%। উনি কি গণিতে ফেল করেছিলেন? নাকি ইচ্ছা করে মানুষকে ভুল তথ্য দিচ্ছেন?”

ওয়াইসি আরও যুক্ত করেন, “একটি ছোট সংখ্যার ওপর যদি বেশি হারে বৃদ্ধি হয়, সেটাকে বিভ্রান্তিকরভাবে বিশাল রূপ দেওয়া যায়। এটা সেই ধরনেরই এক রাজনৈতিক খেলা।” বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরেই ফের ধর্মীয় মেরুকরণ উসকে দিতে চাইছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী মোদি স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নিয়ে যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় অমিত শাহের বক্তব্য।

তবে রাজনীতির বাইরেও এই ইস্যুতে ভারতজুড়ে তৈরি হয়েছে জনমত বিভাজন। কারও মতে, প্রকৃত নিরাপত্তা ও সীমান্তব্যবস্থা দুর্বল বলেই অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠছে, আবার কেউ বলছেন, এই পুরো বিতর্কটাই ভোটের মাঠে ধর্মীয় উত্তাপ বাড়ানোর কৌশল।

সূত্র: এনডিটিভি, পিটিআই, টাইমস অফ ইন্ডিয়া

সর্বশেষ

জনপ্রিয়