বুধবার , ০৩ জুন ২০২৬
Wednesday , 03 June 2026
১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৩৬, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ধাপ কী হবে?

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ধাপ কী হবে?
ছবি: সংগৃহীত

গাজায় দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করছে মধ্যপ্রাচ্য। সোমবার (১৩ অক্টোবর) মিশরের শার্ম আল-শেখে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই দিনই গাজা থেকে শেষ ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেয় হামাস, আর ইসরায়েল মুক্তি দেয় এক হাজার ৭১৮ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে।

আবেগঘন সেই মুহূর্তে ইসরায়েলজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। তেলআবিবের “হোস্টেজেস স্কয়ার”-এ হাজারো মানুষ পতাকা হাতে চিৎকার করে বলে, “ধন্যবাদ ট্রাম্প!” দক্ষিণ ইসরায়েলের রেইম ঘাঁটিতে দুই বছরের বন্দিজীবন শেষে জিম্মিদের পুনর্মিলন ঘটে পরিবারের সঙ্গে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেনেসেটে বক্তব্য দিয়ে ঘোষণা দেন, “দীর্ঘ ও যন্ত্রণাময় দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটেছে—এটি নতুন মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহাসিক ভোর।” তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে এবং গাজার যুদ্ধ শেষ হয়েছে। তবে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে।

গাজায় মুক্ত ফিলিস্তিনিদের বরণ করে নেয় জনতা। অনেককে পশ্চিম তীরে ফেরত পাঠানো হলেও যাদের সহিংস অপরাধের দায়ে সাজা ছিল, তাদেরকে তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে।

শার্ম আল-শেখ সম্মেলনে কাতার, জর্ডান, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের নেতারা যোগ দেন ট্রাম্পের সঙ্গে। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উপস্থিত ছিলেন না। সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার।

চুক্তি অনুযায়ী, হামাস নিরস্ত্রীকরণের পরই ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করবে। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনে হামাসের কোনো স্থান থাকবে কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত।

রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউটের গবেষক বুরচু ওজচেলিক বলেন, “এই চুক্তি একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনা তৈরি করছে, তবে গাজায় স্থায়ী শান্তির জন্য কার্যকর প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়