সোমবার , ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
Monday , 01 December 2025
১৬ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২
০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৩:৪৪, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

আবারও আগুনে পুড়লো মিরপুর! কেমিক্যাল গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

আবারও আগুনে পুড়লো মিরপুর! কেমিক্যাল গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

রাজধানী ঢাকার মিরপুর যেন হয়ে উঠেছে অগ্নিকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। কয়েকদিন পরপরই আগুনের কবলে পুড়ে ছাই হয় এই এলাকা। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে মিরপুরের শিয়ালবাড়ি এলাকায় ‘কসমিক ফার্মা’ নামে একটি গার্মেন্টস ও কেমিক্যাল গোডাউনে হঠাৎ করেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন। মুহূর্তেই কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় গোটা এলাকা।

ঘড়ির কাঁটা তখন ১১টা ৪০ মিনিট ছুঁইছুঁই। আগুন লাগার খবর পৌঁছানোর ১৬ মিনিটের মাথায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট। প্রাণপণ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চললেও, গুদামের ভেতরে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ থাকায় পরিস্থিতি মুহূর্তেই জটিল হয়ে ওঠে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগুন লাগার সঠিক কারণ কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা না গেলেও, আশপাশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র আতঙ্ক। ধোঁয়ার ঘনচাপরায় এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে।

এই অগ্নিকাণ্ডের খবর সামনে আসতেই অনেকের মনেই জেগে উঠেছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগের এক ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি—টঙ্গীর ফেমাস কেমিক্যাল গুদামে আগুন লেগে মারা গিয়েছিলেন তিনজন ফায়ার ফাইটারসহ চারজন। সেই দুর্ঘটনাও ছিল কেমিক্যাল গুদামকেন্দ্রিক। আর আজ, ফের সেই একই ধাঁচের অঘটন!

বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন—নগরীর আবাসিক এলাকাগুলোর ভেতরে কেমিক্যাল বা দাহ্য পদার্থের গুদাম রাখা এক ভয়াবহ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। অথচ এ বিষয়ে বাস্তব কোনো উদ্যোগ বা নজরদারি নেই বললেই চলে।

একটি গোডাউন পুড়লেই শুধু ক্ষতি হয় না—নষ্ট হয় ঘর, ঘাম, জীবন আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। এদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবারই আমরা দেরিতে শিখি, শিখেও ভুলে যাই। যতক্ষণ না কঠোরভাবে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হচ্ছে, ততক্ষণ এসব ঘটনা শুধু পুনরাবৃত্তি ঘটাবে—আর আমরা গুনে যাব ক্ষয়, প্রাণ, আর দীর্ঘশ্বাস। শেষ কথা একটাই—আগুন আমরা নিভাতে পারি, কিন্তু দায়িত্বহীনতার আগুন কবে নিভবে?

সর্বশেষ

জনপ্রিয়