প্রবাসী হিন্দু ব্লগার শ্রী হৃদয় ঘোষের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, পরিবারকে হত্যার হুমকি
সংখ্যালঘুর অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে অনলাইনে লেখালেখির জেরে প্রবাসী হিন্দু ব্লগার ও অ্যাক্টিভিস্ট শ্রী হৃদয় ঘোষের ঢাকার পৈতৃক বাড়িতে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি‘র মদদপুষ্ট একদল জঙ্গী, মৌলবাদী ও দুষ্কৃতকারী কর্তৃক হামলা, ভাঙচুর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানানো হলেও কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, ফলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর ২০২৫ রাতের দিকে হৃদয় ঘোষের অনুপস্থিতিতে হামলাকারীরা তাঁর ঢাকার বাসভবনে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। উচ্চশিক্ষার জন্য বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থানরত হৃদয় ঘোষের বাড়িতে থাকা কম্পিউটার, ব্যক্তিগত মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট করে দেওয়া হয়।
হামলাকারীরা পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে হুমকি দিয়ে জানায়, হৃদয় ঘোষ যদি সংখ্যালঘু অধিকার ও মানবাধিকার ইস্যুতে লেখালেখি বন্ধ না করেন, তবে তাঁকে “যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করা হবে” এবং তাঁর পরিবারের কাউকেও “বাঁচিয়ে রাখা হবে না।” হামলাকারীরা এটিকে একটি “প্রাথমিক সতর্ক সংকেত” বলে উল্লেখ করে।
হৃদয় ঘোষ বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের একজন সক্রিয় সদস্য। বাংলাদেশে অবস্থানকালে তিনি সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, মন্দির ভাঙচুর, ধর্মীয় স্থাপনা ও হিন্দুদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। সংগঠনের বিভিন্ন প্রতিবাদী কর্মসূচিতে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করতেন। এছাড়া তিনি বিএনপি, জামায়াত, হেফাজতে ইসলাম সমর্থিত মৌলবাদী ও জঙ্গী সংগঠনসহ ভূমি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্লগে নিয়মিত লেখালেখি করতেন। এর ফলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এসব গোষ্ঠীর টার্গেটে ছিলেন। তাকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি ধামকি দেওয়ার পরও তার কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ার ফলে ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে তাঁকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়। উক্ত আক্রমনে তিনি প্রাণে বেচে গেলেও মারাত্মকভাবে আহত হন।
পরিবার জানায়, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার আগে হৃদয় ঘোষের বাবা‑মাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়। এতে পরিবারটি মারাত্মক আতঙ্কে পড়ে।
ঘটনার পর পরিবারটি স্থানীয় থানায় সহায়তা চাইলে পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার কারণে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে বাড়ি ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, প্রবাসে অবস্থানরত ভিন্নমতাবলম্বী বা অধিকারকর্মীদের নীরব করতে তাঁদের দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি, যাতে আক্রান্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।





































