মুক্তাগাছায় এক পরিবারের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার শ্রীপুর মাইজহাটি গ্রামে এক পরিবারের বসতবাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা উত্তর মহানগর বিএনপির সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে। গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ রাতের এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে গোলাম রাব্বানী ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগী ও স্থানীয় সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীদের অনেকের হাতে ধারালো ও ভারী অস্ত্র ছিল, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় বাড়ির মালিক মো. আবদুল মোতালেব, তাঁর স্ত্রী লাভলী আঞ্জমান আরা এবং মেয়েরা শীতকালীন ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গোলাম রাব্বানীর আগমনের খবর পেয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে তারা আত্মগোপনে চলে যান বলে দাবি করেন। এরপর তাদের না পেয়ে হামলাকারীরা বাড়িতে ব্যাপক লুটপাট চালায় এবং পরে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে বাড়ির উল্লেখযোগ্য অংশ পুড়ে যায় এবং মূল্যবান আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রধান মো. আবদুল মোতালেব বলেন, তাঁর মেয়ে মাহজুবা তাসরীনের সঙ্গে তাঁর স্বামী মাকসুদ রাব্বানীর পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনার সূত্রপাত। তাঁর অভিযোগ, মাহজুবা তাসরীনের শ্বশুর গোলাম রাব্বানী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গোলাম রাব্বানী একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন এবং নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত থাকলেও, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত গোলাম রাব্বানীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।





































