ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আলভীর বাবাকে রাজধানীতে ধরে পুলিশে দিলেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ধানমন্ডি থানা শাখার আইন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আলভীর বাবা মো. মোশাররফ হোসেনকে (৬৯) রাজধানীর জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখায়।
সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের একজন অতিরিক্ত উপকমিশনার বলেন, স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সহযোগিতায় মোশাররফ হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে মোশাররফ হোসেনের বন্ধু মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এই প্রতিবেদককে বলেন, মোশাররফ হোসেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ধানমন্ডি থানা শাখার আইন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আলভীর বাবা। তাঁদের গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায়। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় বসবাস করে আসছিল। তবে ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে মোশাররফ হোসেন আত্মগোপনে ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে আব্দুল্লাহ আলভী দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন বলে কায়কোবাদ জানান।
কায়কোবাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোশাররফ হোসেন নিজে নিরাপদে বাড়িতে ফিরে আসা এবং তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ আলভীর নিরাপদে দেশে ফেরা ও শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থানের বিষয়ে সহযোগিতা পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি এক বন্ধুর মাধ্যমে বিএনপির ধানমন্ডি থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে দাবি করেন কায়কোবাদ। তাঁর দাবি, ওই বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেনকে তাঁর নিজের বাড়িতে নিরাপদে ফিরে যাওয়া এবং তাঁর ছেলে দেশে ফিরলে নিরাপদে অবস্থানের বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এর বিনিময়ে ওই নেতা অর্থ দাবি করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের দাবি, ওই আশ্বাসের ভিত্তিতে মোশাররফ হোসেন ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে দাবিকৃত অর্থ নিয়ে ওই বিএনপি নেতার সঙ্গে দেখা করতে যান। কায়কোবাদের অভিযোগ, সাক্ষাতের সময় ওই নেতা মোশাররফ হোসেনের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পর তাঁর কর্মীদের সহযোগিতায় তাঁকে মারধর করেন এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটকের সময় ধস্তাধস্তিতে মোশাররফ হোসেন আহত হন। তাঁর বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাঁকে পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬৯ বছর বয়সী মোশাররফ হোসেন হৃদ্রোগে আক্রান্ত।
তবে তাঁকে কোন মামলায় বা কী অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন এবং তাঁকে আদালতে হাজির করা হবে কি না—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।




































