মারধরে আহত ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফসার হোসেন আলমের মৃত্যু
ঢাকায় পিটুনি ও মারধরে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি থানা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফসার হোসেন আলম মারা গেছেন। ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সন্ধ্যা আনুমানিক পৌনে ৭টার দিকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলটির নেতা হিসেবে পরিচিত হওয়ার কারণেই আফসার হোসেন আলমকে পরিকল্পিতভাবে হামলা ও নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ২০২৪ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে আফসার হোসেন আলম আত্মগোপনে চলে যান। তাঁর ছেলে আসিফ হোসেন রচির ভাষ্য, ৬ সেপ্টেম্বর রাতে আফসার হোসেন আলম মুঠোফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ধানমন্ডির বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। তবে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বাড়িতে না ফেরার অনুরোধ করেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। ফলে তাঁরা উদ্বেগের মধ্যে রাত কাটান।
পরিবারের অভিযোগ, ওই রাতে ধানমন্ডিতে নিজ বাসায় ফেরার পথে আফসার হোসেন আলম হামলার শিকার হন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ধানমন্ডি থানা বিএনপির সভাপতি শাহাদত হোসেন সৈকতের অনুসারীরা তাঁকে চিনতে পেরে ধরে নিয়ে যান। পরিবারের আরও অভিযোগ, তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে গুরুতর শারীরিক নির্যাতন করা হয়। তাঁর হাত-পায়ে পেরেক ঢুকিয়ে দেওয়া এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগও করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, নির্যাতনের একপর্যায়ে তাঁকে মৃত মনে করে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৭ সেপ্টেম্বর সকালে ধানমন্ডির আবাহনী মাঠের পাশে আফসার হোসেন আলমকে গুরুতর আহত ও মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সন্ধ্যা আনুমানিক পৌনে ৭টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আফসার হোসেন আলম একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের ভাষ্য, স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে তিনি সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ শুরু করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের একজন পরিচিত নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও দলীয় কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৮ সালে তিনি ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান এবং পরবর্তী সময়ে বহু বছর ওই দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর সাংগঠনিক পরিচয় এলাকায় সুপরিচিত ছিল বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা মামলা করা হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, কাউকে শনাক্ত বা আটক করা হয়েছে কি না এবং হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।




































