নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য সহ্য করা হবে না: থালাপতি বিজয়
নারীদের নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননাকর, মানহানিকর বা অশালীন মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যে অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয় বলেন, তামিলনাড়ুতে তাঁর রাজনৈতিক সাফল্যের পেছনে নারীদের অবদান সবচেয়ে বেশি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা সমালোচনা থাকতেই পারে, তবে নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যেকের অধিকার। তবে সেই স্বাধীনতা কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, সে বিষয়েও সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে কাউকে, বিশেষ করে নারীদের, হেয় করা উচিত নয়।
তামিলনাড়ুতে সাম্প্রতিক সময়ে অশালীনতা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের প্রবণতা বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিজয়। তাঁর ভাষায়, নারীদের নিয়ে মানহানিকর, দ্ব্যর্থবোধক ও অশালীন মন্তব্য করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষও লক্ষ্য করছে। তিনি বলেন, যাদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে, তাঁরাও কারও মা, বোন বা পরিবারের সদস্য। তাই কথা বলার সময় বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত।
নারীদের নিয়ে অশ্লীল বা অবমাননাকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বিজয় আরও বলেন, তিনি আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তার পেছনে সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অভিনেতা হিসেবে তাঁর পথচলা থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বর্তমান দায়িত্ব—সব ক্ষেত্রেই মানুষের পাশাপাশি পরিবারের নারীদের ভূমিকাও রয়েছে।
বিজয়ের এই বক্তব্য আসে বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্টালিনের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী ত্রিশাকে নিয়ে কথিত পরোক্ষ অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠার কয়েক দিন পর। আগস্টে কাবেরী ইস্যুতে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সভায় উদয়নিধি দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে ডিএমকের দাবি, তাঁর বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্পাদনা করে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তিনি অভিনেত্রীর নাম উল্লেখ করেননি।
ওই ঘটনায় পুলিশ উদয়নিধিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে মাদ্রাজ হাইকোর্ট তাঁকে মুক্তির নির্দেশ দেন।
বিধানসভায় বক্তব্যে বিজয় অতীতের একটি ঘটনাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইতিহাসে দেখা গেছে, এই বিধানসভাতেই বিরোধী দল সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জে. জয়ললিতাকে চরমভাবে অপমান করেছিল। সাম্প্রতিক সময়েও কিছু মানুষ দ্ব্যর্থবোধক বক্তব্য দিচ্ছেন। তবে সাধারণ মানুষ এসব ‘চালবাজি’ ও উসকানিমূলক বক্তব্য সম্পর্কে সচেতন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




































