টানা বৃষ্টি ও ঝড়ে ডুবল ঢাকা, পশুর হাট ও ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তি
রাজধানী ঢাকায় মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরের পর থেকে শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি। একদিকে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরার ব্যস্ততা, অন্যদিকে কোরবানির পশুর হাটের শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা—এরই মাঝে আকস্মিক এই জলাবদ্ধতা ঢাকাবাসীকে ফেলেছে চরম ভোগান্তিতে।
১. থমকে গেছে ঈদযাত্রা, বাস-রেলস্টেশনে উপচে পড়া ভিড়
ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছাড়ার উদ্দেশ্যে যারা দুপুরের পর বের হয়েছিলেন, তারা পড়েছেন মহা বিপাকে।
-
রাস্তায় দীর্ঘ যানজট: প্রধান সড়কগুলোতে পানি জমে যাওয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের বাসে ও সিএনজিতে আটকে থাকতে হচ্ছে।
-
টার্মিনালে ভোগান্তি: সায়দাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং রেলস্টেশনগুলোতে ছাতা হাতে হাজার হাজার মানুষকে ট্রেনের বা বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ভিজে শরীরেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন।
২. পশুর হাটে পানির নিচে কোরবানি ঈদ: কাদা-পানিতে নাজেহাল ব্যবসায়ী ও ক্রেতা
বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পশুর বেপারিরা। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি পশুর হাটই এখন কাদা আর পানিতে একাকার।
-
পানিতে দাঁড়িয়ে পশু: কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ী পর্যন্ত পশুর হাটের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। এই হাটের প্রায় ২৫ শতাংশ এলাকা এখন হাঁটু সমান পানির নিচে। দীর্ঘ সময় ধরে গরু-ছাগলগুলোকে পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
-
খাদ্য ও আবাসন সংকট: হাটের ভেতরের জায়গাগুলো তলিয়ে যাওয়ায় পশুর খাবার দেওয়া এবং বেপারিদের থাকার জায়গায় মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়েছে।
-
বিপর্যস্ত বেচাকেনা: কাদা ও নোংরা পানির কারণে ক্রেতারা হাটে ঢুকতে পারছেন না, ফলে কোরবানির পশু কেনাবেচা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে দিয়াবাড়ি ও কালশিসহ অন্যান্য হাটেও।
৩. অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক—সবখানেই জলাবদ্ধতা
মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, কালশি রোডসহ রাজধানীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় ড্রেন উপচে নোংরা পানি রাস্তায় চলে এসেছে। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। রিকশা ও সিএনজি চালকরাও এই পরিস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়েছেন।
৪. আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস ও সতর্কতা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের পর থেকে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়।
সংস্থার বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে যে, ঢাকা, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সিলেট, যশোর ও খুলনাসহ দেশের প্রায় ২৮টি জেলায় বিকেল ৪টার মধ্যে তীব্র দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল, যার প্রভাব পড়েছে দেশজুড়ে।





































